১১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন ||

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: হাসিব


ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের ঘটনায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি ভাস্কর্যটি পূর্বের স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভাঙচুরে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও জাতীয় বীরদের সম্মান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়।

ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা গত দুই বছরে হামিদুর রহমান চত্বরে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান এবং ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চান।

পরে বিকেলে টার্মিনাল এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ভাস্কর্যের ওপর হামলা দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনাবিরোধী। তিনি ভাস্কর্যটি মূল নকশা অনুযায়ী একই স্থানে পুনর্নির্মাণ এবং সারা দেশে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।

ডাকসুর সাবেক জিএস ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংসের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের অজুহাতে ভাস্কর্য অপসারণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেও ভাস্কর্যটি সংরক্ষণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ঝিনাইদহের জনগণ ও তরুণদের প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন ভাস্কর্য অপসারণের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ভাস্কর্যটি একই স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ভাস্কর্য অপসারণের কার্যক্রম স্থগিত করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Anisul Haque

Md. Anisul Haque (Anis) Khulna District Correspondent — Dhaka Journal Md. Anisul Haque is a dedicated journalist and digital content creator, currently serving as the Khulna District Correspondent for the online news portal 'Dhaka Journal'. In addition to his reporting, he possesses expertise in graphics design and video editing, which enhances the visual storytelling of his news presentations. Prior to his career in journalism, he served in the Bangladesh Jail department as a Prison Guard (No. 42564). Alongside his professional reporting, he manages the Islamic platform 'The Quran Voice' and is actively involved in creating social awareness and entertainment-based digital content. He is committed to objective journalism and driving positive social change through his creative endeavors.

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন ||

আপডেট সময় ০৯:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: হাসিব


ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের ঘটনায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি ভাস্কর্যটি পূর্বের স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভাঙচুরে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও জাতীয় বীরদের সম্মান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়।

ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা গত দুই বছরে হামিদুর রহমান চত্বরে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান এবং ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চান।

পরে বিকেলে টার্মিনাল এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ভাস্কর্যের ওপর হামলা দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনাবিরোধী। তিনি ভাস্কর্যটি মূল নকশা অনুযায়ী একই স্থানে পুনর্নির্মাণ এবং সারা দেশে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।

ডাকসুর সাবেক জিএস ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংসের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের অজুহাতে ভাস্কর্য অপসারণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেও ভাস্কর্যটি সংরক্ষণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ঝিনাইদহের জনগণ ও তরুণদের প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন ভাস্কর্য অপসারণের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ভাস্কর্যটি একই স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ভাস্কর্য অপসারণের কার্যক্রম স্থগিত করে।