বাসাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে বাশিরুল-যুবরাজ-মনিরুজ্জামান প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়ী
- আপডেট সময় ০১:৩৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদক,ঢাকা জার্নাল:
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, বাসাইল উপজেলা শাখার নির্বাচন-২০২৬। গত ১৮ জুলাই (শনিবার) উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিরতিহীন ভাবে সকাল ৮:০০ টা থেকে বিকেল ৪:০০ টা পর্যন্ত চলে এই ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষকদের মনোনীত ‘বাশিরুল-যুবরাজ-মনিরুজ্জামান’ পূর্ণ প্যানেল বিপুল ভোটের ব্যবধান বজায় রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পরাজিত করে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ছিল ৫০৫ জন। এর মধ্যে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বমোট ৪৯৩ জন শিক্ষক স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার তথা বাসাইল উপজেলা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিইও) আব্দুল কাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনের এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সভাপতি পদে বাশিরুল ইসলাম ২৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ. এস. এম. রেজাউর রহমান পেয়েছেন ১৯১ ভোট। নির্বাহী কার্যকরী সভাপতি পদে যুবরাজ ভূঁইয়া সর্বোচ্চ ৩১৭ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুর রহমান খান পেয়েছেন ১৪০ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মনিরুজ্জামান মিয়া ২৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনির খান ইমন পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। এছাড়া নির্বাহী কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর মীর রুবেল ২৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস. এম. মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ২৩৫ ভোট।
এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কেড়েছে সিনিয়র সহ-সভাপতি (পুরুষ) পদটি, যেখানে জমজমাট লড়াই শেষে ৩ জন প্রার্থী বিপুল ভোট পেয়ে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ হাসিবুল হাসান ৩৫৮ ভোট, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৩২৪ ভোট এবং মোহাম্মদ মিনজু মিয়া ২৯৫ ভোট পেয়ে সম্মিলিতভাবে বিজয়ী হন। অন্যদিকে সিনিয়র সহ-সভাপতি (নারী) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দু’জন প্রার্থী, যেখানে তাহমিনা খোশনবীশ ৪০০ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে বিজয়ী হন এবং অপর প্রতিদ্বন্দ্বী এলিজা হক এমেলী পান ৭৫ ভোট। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক (নারী) পদে সুমী শিকদার ২৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন,তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালমা ফারুকী পান ১৮৯ ভোট,সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. মান্নান মিয়া ২৭৫ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. হারুন ইবনে ওয়াজেদ খান পান ২০৯ ভোট,নারী সম্পাদক পদে মোহসীনা জাহান ৩১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোকসানা আক্তার পান ১৫৮ ভোট,অর্থ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ৩৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রফিকুল ইসলাম পান ১৩৫ ভোট এবং শিক্ষা, প্রাশি ও মাউশি সম্পাদক পদে হাবিবুর রহমান ৩৩৩ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ফারুক হোসেন পান ১৩২ ভোট।

শিক্ষকদের এই শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোটা জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নির্বাচনটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে আসেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সম্মানিত সভাপতি মোঃ সহিনুর রহমান খান। তাঁর সাথে জেলা কমিটির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও টাঙ্গাইল সদর, মির্জাপুর, নাগরপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, সখিপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ সহিনুর রহমান খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বাসাইল উপজেলার শিক্ষকরা আজ যে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সাধারণ শিক্ষকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে প্রাথমিক শিক্ষকরা তাদের অধিকার ও সংগঠনের ব্যাপারে কতটা সচেতন।

নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে বাসাইলের প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এই প্যানেল আপসহীন ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ের পর নবনির্বাচিত সভাপতি বাশিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মিয়া উপস্থিত জেলা, উপজেলা নেতৃবৃন্দসহ সকল সাধারণ শিক্ষকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাসাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় সর্বাত্মক কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।





















