আলোকোজ্জ্বল মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়ামে কাল পর্দা উঠছে মাসব্যাপী ‘কুটির শিল্প ও পণ্য মেলা’র
- আপডেট সময় ১২:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা জার্নালঃ
উৎসবের আবহে সাজ সাজ রব এখন টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মির্জাপুরে। দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির ধারা রক্ষা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার এবং বিনোদনপিয়াসী মানুষের জন্য এক খণ্ড আনন্দের বার্তা নিয়ে কাল শুক্রবার বিকেলে শুরু হতে যাচ্ছে ‘মির্জাপুর কুটির শিল্প ও পণ্য মেলা ২০২৬। স্থানীয় মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে আগামী ৯ই নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ এক মাসব্যাপী চলবে এই বৈচিত্র্যময় পণ্যের মেলবন্ধন।
প্রধান অতিথি ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মেলা প্রাঙ্গণে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হবে। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
পর্দা ওঠার শেষ প্রস্তুতি শুভ উদ্বোধনের প্রাক্কালে মিনি স্টেডিয়ামের পুরো মাঠজুড়ে এখন শুধুই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। রঙ-বেরঙের পতাকা, মনকাড়া তোরণ আর নয়নাভিরাম আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচলের কথা মাথায় রেখে সুবিন্যস্তভাবে সাজানো হয়েছে প্রতিটি ভিআইপি ও সাধারণ স্টল। চারপাশের চারুশিল্প ও বাঁশ-কাপড়ের সুনিপুণ নকশায় ফুটে উঠেছে এক চিরায়ত মেলাঙ্গনের প্রতিচ্ছবি।
প্রবেশ টিকিট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেলায় দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে নামমাত্র ২০ টাকা প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোমলমতি শিশুদের আনন্দের কথা বিবেচনা করে ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য টিকিটবিহীন বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে মেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য পুরো মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আয়োজকের শুভকামনা ও আশাবাদ মেলার সার্বিক আয়োজন ও সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজক সংস্থা ‘দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আল-আমিন দেওয়ান বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি শিল্পকর্মকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। কাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের হাত ধরে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘটবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মাত্র ২০ টাকা প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের ফ্রি প্রবেশের সুযোগ থাকছে। আমরা পুরো মাঠ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন ও পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছি। আর মেলায় প্রতি সোমবার ও মঙ্গলবার দেশবরণ্য শিল্পীদের সম্বনয়ে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় থাকবেন সুলতান মৃধা ও লোকমান হোসেন।আগামী এক মাস মির্জাপুরবাসীর জন্য এই মেলা এক প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে যা থাকছে ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য ও কুটির শিল্প: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তাঁতসামগ্রী, জামদানি, মৃৎশিল্প, বাঁশ-বেতের সুনিপুণ শিল্পকর্ম এবং নান্দনিক গৃহসজ্জার প্রসাধন।পারিবারিক কেনাকাটা নারীদের আধুনিক পোশাক, মনকাড়া গয়না, প্রসাধনী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় থ্রি-পিস ও শাড়ির সমাহার। শিশুদের শৈশব ভুবন সোনামণিদের বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জন্য মেলায় রয়েছে বিশালাকার নাগোরদোলা, ট্রেন রাইড, ওয়াটার বোটসহ বিনোদনের নানা আধুনিক আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী স্বাদের মুখরোচক খাবার: দর্শনার্থীদের রসনাতৃপ্তিতে থাকছে গ্রামীণ পিঠা-পুলি, গরম চটপটি, ফুচকা ও রকমারি ফাস্টফুডের সমাহার। কাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধনের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী মির্জা জাকারিয়া হাবিব ডায়মন্ড ও হালিম মেডিসিন শপের মালিক মোঃ ইমন মিয়া বলেন, যান্ত্রিক ব্যস্ততার মাঝে প্রতিদিনের গণ্ডি পেরিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু হাঁসফাঁস ফেলার এবং কেনাকাটার জন্য এই মেলা মির্জাপুরে এক অনন্য উৎসবের হাওয়া ছড়িয়ে দেবে।






















