১১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত বন্ধু হবে, আশা প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত বন্ধুত্বের নজির রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমরা এখন আগামী ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। কারণ, শুকনো মৌসুমে আমরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি না। শুকনো মৌসুমে আমাদের কমপক্ষে ৩০ হাজার কিউসেকের বেশি পানি পাওয়া উচিত, সেখানে কোনো মাসে ৫ হাজার কিউসেক পর্যন্তও হতো।’

তিনি বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের কারিগরি দলের সদস্যরা প্রতিদিন পানির প্রবাহ পরিমাপ করেন। প্রতিবেশী দেশ অতীতের চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। গত জুনে কলকাতায় এ বিষয়ে একটি সভাও হয়েছে। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তাকে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়েছে। হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। হাইকমিশনার দেশে ফিরলে এ বিষয়ে অগ্রগতি জেনে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মার পানি নিয়ে ভারতের অতীতের বিভিন্ন ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের পরিচয় দেবে এবং এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেবে বলে আশা করেন তিনি।

এসময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর নওহাটা সেতু সংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পরিদর্শন করেন। পরে নগরের শ্রীরামপুর টি-গ্রোয়েন পরিদর্শন এবং কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছের চারা রোপণ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত বন্ধু হবে, আশা প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০:০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত বন্ধুত্বের নজির রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমরা এখন আগামী ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। কারণ, শুকনো মৌসুমে আমরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি না। শুকনো মৌসুমে আমাদের কমপক্ষে ৩০ হাজার কিউসেকের বেশি পানি পাওয়া উচিত, সেখানে কোনো মাসে ৫ হাজার কিউসেক পর্যন্তও হতো।’

তিনি বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের কারিগরি দলের সদস্যরা প্রতিদিন পানির প্রবাহ পরিমাপ করেন। প্রতিবেশী দেশ অতীতের চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। গত জুনে কলকাতায় এ বিষয়ে একটি সভাও হয়েছে। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তাকে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়েছে। হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। হাইকমিশনার দেশে ফিরলে এ বিষয়ে অগ্রগতি জেনে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মার পানি নিয়ে ভারতের অতীতের বিভিন্ন ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের পরিচয় দেবে এবং এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেবে বলে আশা করেন তিনি।

এসময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর নওহাটা সেতু সংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পরিদর্শন করেন। পরে নগরের শ্রীরামপুর টি-গ্রোয়েন পরিদর্শন এবং কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছের চারা রোপণ করেন।