১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ধীরগতিতে মার্কিন সেবাখাত, লাফিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অঙ্গনে আবারও নতুন করে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। খবর বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির বিশাল সেবা খাতের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, এই শ্লথগতির সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যের উপাদান খরচ। এতে আরও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট বা আইএসএম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আশঙ্কাজনক ছবি। তাদের অ-উৎপাদনমুখী পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সেবা খাতের সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৯-এ, যা আগের মাস অর্থাৎ আগস্টে ছিল ৫৫.৪। সূচকটি এখনও ৫০-এর ওপরে থাকায় সার্বিক বৃদ্ধিক্রম বজায় থাকলেও অর্থনীতির এই গতি শ্লথ হওয়া এবং সেই সঙ্গে খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার পারদ এখন তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের কেনাকাটার প্রবল আগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এআই ও সম্পর্কিত পরিকাঠামোয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ পুরো অর্থনীতিকে সচল রাখছে ঠিকই কিন্তু এর বিপরীতে তৈরি হয়েছে জোগান বা সরবরাহের এক বিশাল ঘাটতি। সেপ্টেম্বরে নতুন অর্ডারের সূচক কিছুটা কমে ৫৯.৮-এ নামলেও আগের মাসের রেকর্ড চাহিদার যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল।

উপরন্তু, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে জ্বালানি ও বিভিন্ন কাঁচামাল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় লাফিয়ে বাড়ছে ডিজেলের দাম। পরিবহন আর কৃষি খাতের সীমা পেরিয়ে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দর এখন গ্রাস করতে চলেছে পুরো মার্কিন অর্থনীতিকে।

ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাঁচামাল ও সেবা পণ্যের জোগান পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন। সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩.২-এ। যা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে যে টানা ২২ মাস ধরে মার্কিন মুলুকে পণ্য পৌঁছানোর গতি ধীর হয়ে পড়েছে। আমদানি শুল্কের জাঁতাকলে যে সংকটের সূচনা হয়েছিল, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুনে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আর এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়েছে ব্যবসা পরিচালনার খরচে। সেপ্টেম্বরে সেবা খাতের উপকরণ কেনার খরচ বা ‘প্রাইসেস পেইড’ সূচক ৭২.৬ থেকে বেড়ে একলাফে ৭৪.০-এ গিয়ে ঠেকেছে। উৎপাদন খাতের পর সেবা খাতের এই অগ্নিমূল্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এমন এক উত্তপ্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। গত মাসেই তারা নিজেদের নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশের কোটায় উন্নীত করেছিল, যা ছিল গত তিন বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি। যদিও জুলাই ও আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার সংকেত পাওয়া গিয়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে নতুন কর্মসংস্থানের গতি ছিল কিছুটা শ্লথ, তবুও আইএসএম-এর এই সর্বশেষ তথ্য সব হিসাবনিকাশ উল্টে দিচ্ছে। সেবা খাতের কর্মসংস্থান সূচক ৪৭.৮ থেকে বেড়ে ৫০.১-এ উন্নীত হওয়া প্রমাণ করে যে কাজের বাজার এখনও টিকে আছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ধীরগতিতে মার্কিন সেবাখাত, লাফিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

আপডেট সময় ০৯:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অঙ্গনে আবারও নতুন করে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। খবর বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির বিশাল সেবা খাতের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, এই শ্লথগতির সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যের উপাদান খরচ। এতে আরও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট বা আইএসএম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আশঙ্কাজনক ছবি। তাদের অ-উৎপাদনমুখী পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সেবা খাতের সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৯-এ, যা আগের মাস অর্থাৎ আগস্টে ছিল ৫৫.৪। সূচকটি এখনও ৫০-এর ওপরে থাকায় সার্বিক বৃদ্ধিক্রম বজায় থাকলেও অর্থনীতির এই গতি শ্লথ হওয়া এবং সেই সঙ্গে খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার পারদ এখন তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের কেনাকাটার প্রবল আগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এআই ও সম্পর্কিত পরিকাঠামোয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ পুরো অর্থনীতিকে সচল রাখছে ঠিকই কিন্তু এর বিপরীতে তৈরি হয়েছে জোগান বা সরবরাহের এক বিশাল ঘাটতি। সেপ্টেম্বরে নতুন অর্ডারের সূচক কিছুটা কমে ৫৯.৮-এ নামলেও আগের মাসের রেকর্ড চাহিদার যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল।

উপরন্তু, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে জ্বালানি ও বিভিন্ন কাঁচামাল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় লাফিয়ে বাড়ছে ডিজেলের দাম। পরিবহন আর কৃষি খাতের সীমা পেরিয়ে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দর এখন গ্রাস করতে চলেছে পুরো মার্কিন অর্থনীতিকে।

ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাঁচামাল ও সেবা পণ্যের জোগান পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন। সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩.২-এ। যা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে যে টানা ২২ মাস ধরে মার্কিন মুলুকে পণ্য পৌঁছানোর গতি ধীর হয়ে পড়েছে। আমদানি শুল্কের জাঁতাকলে যে সংকটের সূচনা হয়েছিল, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুনে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আর এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়েছে ব্যবসা পরিচালনার খরচে। সেপ্টেম্বরে সেবা খাতের উপকরণ কেনার খরচ বা ‘প্রাইসেস পেইড’ সূচক ৭২.৬ থেকে বেড়ে একলাফে ৭৪.০-এ গিয়ে ঠেকেছে। উৎপাদন খাতের পর সেবা খাতের এই অগ্নিমূল্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এমন এক উত্তপ্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। গত মাসেই তারা নিজেদের নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশের কোটায় উন্নীত করেছিল, যা ছিল গত তিন বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি। যদিও জুলাই ও আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার সংকেত পাওয়া গিয়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে নতুন কর্মসংস্থানের গতি ছিল কিছুটা শ্লথ, তবুও আইএসএম-এর এই সর্বশেষ তথ্য সব হিসাবনিকাশ উল্টে দিচ্ছে। সেবা খাতের কর্মসংস্থান সূচক ৪৭.৮ থেকে বেড়ে ৫০.১-এ উন্নীত হওয়া প্রমাণ করে যে কাজের বাজার এখনও টিকে আছে।