০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

এআইসহ তিন খাতে চীনের সহযোগিতা চান জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং যৌথ নীতি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ২০২৬ অন দ্য কমপারেটিভ ফোরাম’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআইআইএসএস এবং চীনের ফুডান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে এবং তা ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, চীন বহু বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সেতু, মহাসড়ক, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পাঞ্চল এবং ডিজিটাল সংযোগসহ বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ নতুন উদ্যম, নতুন প্রত্যয় ও আশাবাদ নিয়ে উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সুশাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নগর পরিকল্পনা, কৃষি এবং জনসেবা প্রদানে এআই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ঝাং পিং বিআইআইএসএসের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার পথ সুগম করবে।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান বলেন, এ ফোরামটি বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অর্থবহ একাডেমিক সংলাপ এবং নীতিবিষয়ক মতবিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অধিবেশনে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৭ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সনদ বিতরণ করেন উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সুশাসনের আধুনিকায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল শাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, শিল্পায়ন এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ফুডান ইউনিভার্সিটি ও বিআইআইএসএসের শিক্ষক-গবেষক এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এআইসহ তিন খাতে চীনের সহযোগিতা চান জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১০:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং যৌথ নীতি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ২০২৬ অন দ্য কমপারেটিভ ফোরাম’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআইআইএসএস এবং চীনের ফুডান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে এবং তা ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, চীন বহু বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। সেতু, মহাসড়ক, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পাঞ্চল এবং ডিজিটাল সংযোগসহ বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ নতুন উদ্যম, নতুন প্রত্যয় ও আশাবাদ নিয়ে উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সুশাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নগর পরিকল্পনা, কৃষি এবং জনসেবা প্রদানে এআই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ঝাং পিং বিআইআইএসএসের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার পথ সুগম করবে।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান বলেন, এ ফোরামটি বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অর্থবহ একাডেমিক সংলাপ এবং নীতিবিষয়ক মতবিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অধিবেশনে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৭ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সনদ বিতরণ করেন উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সুশাসনের আধুনিকায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল শাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, শিল্পায়ন এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ফুডান ইউনিভার্সিটি ও বিআইআইএসএসের শিক্ষক-গবেষক এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।