মির্জাপুরের বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে চুরি: দায় কার?
- আপডেট সময় ০৯:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৩৬ বার পড়া হয়েছে
মনন মাহাথির, ঢাকা জার্নাল: টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের হাটুভাঙা এলাকায় অবস্থিত বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাতে প্রতিষ্ঠানটির তালা ভেঙে ও ৫টি আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরচক্র।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে বিষয়টি টের পেয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় ফোন করে অভিযোগ জানায়। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা জিডি করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ স্কুলের দপ্তরি কাম প্রহরী মোঃ বেলালকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রহরী বেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দায় চাপানো হয়েছে আমার ওপর।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নগদ অর্থ বা দামী মালামাল না নিয়ে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি হওয়ায় অনেকেই পরিকল্পিতভাবে প্রমাণ গায়েব করার আশঙ্কা করছেন। কেউ কেউ ধারণা করছেন, পূর্বের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য আড়াল করতেই এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলেও এরপর থেকে রেকর্ড বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরির প্রমাণ আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমজাত হোসেন দপ্তরি বেলালকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ইঙ্গিত করলেও পুলিশ জানিয়েছে, তাকে থানায় এসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে অনুরোধ করা হলেও এখনো তিনি তা করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট। একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে কোনো নিরীহ কর্মচারীর ওপর দায় চাপানো হচ্ছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। এলাকাবাসী জানান, এর আগেও কয়েকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।






















