০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

তিনটি আলাদা কক্ষে পড়ে ছিল প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর গলাকাটা লাশ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই শিশুর মধ্যে একজন ওই নারীর সন্তান এবং অন্যজন দেবরের ছেলে। আজ মঙ্গলবার সকালে হোমনার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের উত্তর মণিপুর গ্রামে এ ঘটনা জানাজানি হয়।

 

নিহতরা হলেন—একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার (৩৫বছর), তাঁদের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং জহিরুলের ছোট ভাই আবদুস সাত্তারের ছেলে (৫বছর)জোবায়ের হোসেন ।স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল সোমবার গভীর রাতে কোনো এক সময় তিনজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

 

প্রতিবেশি ও স্বজনেরা জানান, যে ঘরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—সেটি জহিরুলের। জহিরুল ও পাপিয়ার সংসারে আরও দুই মেয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে, অন্যজন মাদ্রাসায় পড়ে। মেয়েরা বাড়িতে না থাকায় দেবরের ছেলে জোবায়েরকে নিজ ঘরে রাখতেন পাপিয়া। জোবায়েরের বাবাও প্রবাসে থাকেন।

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দরজা ও গেট খোলা দেখতে পান। পরে তিনটি কক্ষে দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একতলা ওই ভবনের তিনটি পৃথক কক্ষে তিনজনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে ছিল। পাপিয়ার কক্ষের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে মালামাল লুট করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। সেখান থেকে আলামত সংগ্রহের জন্য পিবিআই ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেশী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘সকালে হঠাৎ খবর পাই তিনজনকে জবাই করে খুন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দরজা ও গেট খোলা। এরপর দেখলাম ঘরের তিনটি কক্ষে দুই শিশুসহ তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। পরিবারটি খুব ভালো ছিল, কারও তেমন কোনো ঝামেলা ছিলো না। কে বা কারা এই নৃশংস হত্যা করেছে—আমরা ভাবতেই পারছি না।’

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পাপিয়ার বোন সেলিনা আক্তার। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘কে জানতো খুনিরা বাচ্চাগুলোরেও খুন করবো। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। কারা এই খুনে জড়িত—দ্রুত যেন পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করে।’

 

হত্যার নেপথ্য কারণ এবং জড়িতদের সনাক্তে কাজ শুরু করা হয়েছে জানিয়ে হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

প্রতিবেদক: হাসিব,ঢাকা জার্নাল 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Anisul Haque

Md. Anisul Haque (Anis) Khulna District Correspondent — Dhaka Journal Md. Anisul Haque is a dedicated journalist and digital content creator, currently serving as the Khulna District Correspondent for the online news portal 'Dhaka Journal'. In addition to his reporting, he possesses expertise in graphics design and video editing, which enhances the visual storytelling of his news presentations. Prior to his career in journalism, he served in the Bangladesh Jail department as a Prison Guard (No. 42564). Alongside his professional reporting, he manages the Islamic platform 'The Quran Voice' and is actively involved in creating social awareness and entertainment-based digital content. He is committed to objective journalism and driving positive social change through his creative endeavors.

তিনটি আলাদা কক্ষে পড়ে ছিল প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর গলাকাটা লাশ

আপডেট সময় ০৫:২৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই শিশুর মধ্যে একজন ওই নারীর সন্তান এবং অন্যজন দেবরের ছেলে। আজ মঙ্গলবার সকালে হোমনার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের উত্তর মণিপুর গ্রামে এ ঘটনা জানাজানি হয়।

 

নিহতরা হলেন—একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার (৩৫বছর), তাঁদের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং জহিরুলের ছোট ভাই আবদুস সাত্তারের ছেলে (৫বছর)জোবায়ের হোসেন ।স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল সোমবার গভীর রাতে কোনো এক সময় তিনজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

 

প্রতিবেশি ও স্বজনেরা জানান, যে ঘরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—সেটি জহিরুলের। জহিরুল ও পাপিয়ার সংসারে আরও দুই মেয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে, অন্যজন মাদ্রাসায় পড়ে। মেয়েরা বাড়িতে না থাকায় দেবরের ছেলে জোবায়েরকে নিজ ঘরে রাখতেন পাপিয়া। জোবায়েরের বাবাও প্রবাসে থাকেন।

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দরজা ও গেট খোলা দেখতে পান। পরে তিনটি কক্ষে দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একতলা ওই ভবনের তিনটি পৃথক কক্ষে তিনজনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে ছিল। পাপিয়ার কক্ষের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে মালামাল লুট করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। সেখান থেকে আলামত সংগ্রহের জন্য পিবিআই ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেশী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘সকালে হঠাৎ খবর পাই তিনজনকে জবাই করে খুন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দরজা ও গেট খোলা। এরপর দেখলাম ঘরের তিনটি কক্ষে দুই শিশুসহ তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। পরিবারটি খুব ভালো ছিল, কারও তেমন কোনো ঝামেলা ছিলো না। কে বা কারা এই নৃশংস হত্যা করেছে—আমরা ভাবতেই পারছি না।’

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পাপিয়ার বোন সেলিনা আক্তার। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘কে জানতো খুনিরা বাচ্চাগুলোরেও খুন করবো। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। কারা এই খুনে জড়িত—দ্রুত যেন পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করে।’

 

হত্যার নেপথ্য কারণ এবং জড়িতদের সনাক্তে কাজ শুরু করা হয়েছে জানিয়ে হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে। সেই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

প্রতিবেদক: হাসিব,ঢাকা জার্নাল