০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ ফুটবল

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

বয়সভিত্তিক সাফ বা সিনিয়র সাফ। নারী বিভাগে দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের প্রবল প্রতিপক্ষ ভারত। কখনো তাদেরকে হারিয়ে শিরোপা জয়। কখনো তাদের কাছে পরাজয় মেনে হতাশা নিয়ে দেশে ফেরা। গতকাল নেপালের পর্যটন নগরী পোখারারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে আবার সেই ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। যেহেতু এবার অর্পিতা বিশ্বাসদের প্রস্তুতি মাত্র এক দিনের এবং আসরের মাঠের অবস্থাও করুণ তাই শঙ্কা ছিল। তবে পোস্টের নিচে ইয়ারজান বেগম, মিডফিল্ডে মুনকি আক্তার ও ফরোয়ার্ড লাইনে আলপি আক্তার, এদের দাপটের কাছে পাত্তাই পেল না প্রতিবেশী দেশটি। প্রথমার্ধেই করা অর্পিতা বিশ্বাসদের ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়াটা বিরতির পরও বহাল থাকে। ফলে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামীকাল নেপালের সাথে ড্র করলেই ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হবে গত আসরের যুগ্ম চ্যাম্পিয়নদের। কাল অপর ম্যাচে নেপাল ২-১ গোলে হারিয়েছে ভুটানকে।

২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সাথে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক চরম তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আর সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে সম্পর্ক আরো খারাপ হয়। বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনের ইস্যু তুলে মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া হয় আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে। এরপর বাংলাদেশও ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসিও বাংলাদেশের পক্ষ না নিয়ে ভারতের দালালি শুরু করে। ফলে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলার দাবিকে উপেক্ষা করে উল্টো টাইগারদের বাদ দেয়া হয় বিশ্বকাপ থেকে। বিকল্প হিসেবে নেয়া হয় স্কটল্যান্ডকে। এর পরপরই ভারতের বিপক্ষে নারী ফুটবলে লাল-সবুজদের এই ম্যাচ ভিন্ন গুরুত্ব বহন করছিল। জিতলে একধরনের প্রতিশোধও। সে সাথে ফাইনালে যাওয়ার রাস্তাও প্রশস্ত হবে। কাল দুই লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে। এখন ফাইনালে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেই পূর্নতা পাবে সব।

এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে বাংলাদেশ শুরু করেছিল ভুটানের বিপক্ষে ১২-০ গোলের জয় দিয়ে। আর ভারত ১-০তে হারায় নেপালকে। এতে স্পষ্ট ছিল ম্যাচে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশই। তবে ইংলিশ নারী কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেয়া ভারতীয় দল কিন্তু গতকাল শুরুর দিকে বেশ চেপে ধরেছিল পিটার জেমস বাটলার বাহিনীকে। প্রথম ১০/১৫ মিনিটে বাংলাদেশ সীমানায় হানা দিয়ে গোলের চান্সও তৈরি করে তারা। ৮ মিনিটে তো গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল ভারত। বক্সের ভেতর থেকে গোলরক্ষক ইয়ারজানকে পেয়ে যান ভারতীয় স্ট্রাইকার। তিনি ডান পায়ে মাটি ঘেঁষা শটও নেন। তবে বাংলাদেশ কিপার ইয়ারজান বেগম বাম দিকে শরীর ফেলে রুখে দেন তা।

এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের পাল্টা আক্রমণ। গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৯ মিনিট পর্যন্ত। প্রথম গোলটি এসেছে সেট পিচ থেকে। বক্সের ডান দিকের কোনার বাইরে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। মামনি চাকমা এবং মুনকি আক্তার দুইজনই আসেন ফ্রি-কিক নিতে। শেষ পর্যন্ত মুনকি ডামি আর মামনির বাম পায়ে বক্সে বল ফেলা। সেই ফ্রি-কিকের শট বিপক্ষ গোলরক্ষক মুন্নীর হাত ফসকে গোল লাইনের উপর হাওয়ায় ভাসতে থাকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস সেই বলে পা লাগিয়ে দলকে উল্লাসে মাতান। ৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এবার গোলদাতা আলপি আক্তার। ডান দিক থেকে তৃষ্ণা রানীর ক্রসে চলতি বলে পা লাগিয়ে চমৎকার গোল করেন আলপি। এ নিয়ে তিন আসরে ভারতের বিপক্ষে গোল করলেন এবারের লিগ রাজশাহী স্টারসের হয়ে খেলা এই স্টাইকার। ৪১ মিনিটে অবশ্য আরেকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন এই খেলোয়াড়। পূজা দাসের বাড়ানো ক্রস ছোট বক্সের উপর মাথা দিয়ে সামনে নামান আলপি। এরপর ডান পায়ের ভলি নিলেও তা ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে যায়।

দ্বিতীয় গোলের আগেই ৩৭ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার মাঠ থেকে তুলে নেন মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে। বিরতির পর ৭৮মিনিটে জয়নব বিবি রিতা, আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা তৃষ্ণা রানী এবং ৬৭ মিনিটে স্ট্রাইকার সৌরভী আকন্দ প্রীতিকে তুলে নেন কোচ। অন্য দিকে ভারতের কোচ এক খেলোয়াড়কে বদল করে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন। এতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভারত খেলায় ফেরার চেস্টাও করে। ৪৯ মিনিটে ঝুলান লংমাইথামের ভলি বার উঁচিয়ে যাওয়ায় রক্ষা। ৭০ মিনিটে ডিফেন্ডার জয়নব বিবি রিতার দক্ষতায় গোলের হাত থেকে বাঁচে বাংলাদেশ। তিনি ভারতীয় ফরোয়ার্ডের শটে পা লাগিয়ে কর্নার করেন। ৮০ মিনিটে ইয়ারজানের কৃতিত্বে বল জালে যায়নি। ৮৯ মিনিটেও শট বাংলাদেশী ডিফেন্ডারের পায়ে লাগায় গোল হয়নি।

পুরো ম্যাচে মিডফিল্ড দাবিয়ে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের মুনকি আক্তার। চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ভেঙেচুরে দেন ভারতের ডিফেন্স লাইন। তবে গোলের দেখা পাননি আগের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৪ গোল করা লালমনিরহাটের এই ফুটবলার। ৫৬ ও ৮৪ মিনিটে তার দু’টি দূর থেকে নেয়া শট রুখে দেন ভারতের গোলরক্ষক। এতে ২-০তে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। হারের ফলে ফাইনালে যেতে হলে ভারতকে এখন জিততে হবে ভুটানের বিপক্ষে।

বাংলাদেশ (অর্পিতা, আলপি) ২-০ ভারত

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ ফুটবল

আপডেট সময় ০৫:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বয়সভিত্তিক সাফ বা সিনিয়র সাফ। নারী বিভাগে দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের প্রবল প্রতিপক্ষ ভারত। কখনো তাদেরকে হারিয়ে শিরোপা জয়। কখনো তাদের কাছে পরাজয় মেনে হতাশা নিয়ে দেশে ফেরা। গতকাল নেপালের পর্যটন নগরী পোখারারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে আবার সেই ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। যেহেতু এবার অর্পিতা বিশ্বাসদের প্রস্তুতি মাত্র এক দিনের এবং আসরের মাঠের অবস্থাও করুণ তাই শঙ্কা ছিল। তবে পোস্টের নিচে ইয়ারজান বেগম, মিডফিল্ডে মুনকি আক্তার ও ফরোয়ার্ড লাইনে আলপি আক্তার, এদের দাপটের কাছে পাত্তাই পেল না প্রতিবেশী দেশটি। প্রথমার্ধেই করা অর্পিতা বিশ্বাসদের ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়াটা বিরতির পরও বহাল থাকে। ফলে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামীকাল নেপালের সাথে ড্র করলেই ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হবে গত আসরের যুগ্ম চ্যাম্পিয়নদের। কাল অপর ম্যাচে নেপাল ২-১ গোলে হারিয়েছে ভুটানকে।

২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সাথে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক চরম তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আর সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে সম্পর্ক আরো খারাপ হয়। বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনের ইস্যু তুলে মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া হয় আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে। এরপর বাংলাদেশও ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসিও বাংলাদেশের পক্ষ না নিয়ে ভারতের দালালি শুরু করে। ফলে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলার দাবিকে উপেক্ষা করে উল্টো টাইগারদের বাদ দেয়া হয় বিশ্বকাপ থেকে। বিকল্প হিসেবে নেয়া হয় স্কটল্যান্ডকে। এর পরপরই ভারতের বিপক্ষে নারী ফুটবলে লাল-সবুজদের এই ম্যাচ ভিন্ন গুরুত্ব বহন করছিল। জিতলে একধরনের প্রতিশোধও। সে সাথে ফাইনালে যাওয়ার রাস্তাও প্রশস্ত হবে। কাল দুই লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে। এখন ফাইনালে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেই পূর্নতা পাবে সব।

এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে বাংলাদেশ শুরু করেছিল ভুটানের বিপক্ষে ১২-০ গোলের জয় দিয়ে। আর ভারত ১-০তে হারায় নেপালকে। এতে স্পষ্ট ছিল ম্যাচে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশই। তবে ইংলিশ নারী কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেয়া ভারতীয় দল কিন্তু গতকাল শুরুর দিকে বেশ চেপে ধরেছিল পিটার জেমস বাটলার বাহিনীকে। প্রথম ১০/১৫ মিনিটে বাংলাদেশ সীমানায় হানা দিয়ে গোলের চান্সও তৈরি করে তারা। ৮ মিনিটে তো গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল ভারত। বক্সের ভেতর থেকে গোলরক্ষক ইয়ারজানকে পেয়ে যান ভারতীয় স্ট্রাইকার। তিনি ডান পায়ে মাটি ঘেঁষা শটও নেন। তবে বাংলাদেশ কিপার ইয়ারজান বেগম বাম দিকে শরীর ফেলে রুখে দেন তা।

এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের পাল্টা আক্রমণ। গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৯ মিনিট পর্যন্ত। প্রথম গোলটি এসেছে সেট পিচ থেকে। বক্সের ডান দিকের কোনার বাইরে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। মামনি চাকমা এবং মুনকি আক্তার দুইজনই আসেন ফ্রি-কিক নিতে। শেষ পর্যন্ত মুনকি ডামি আর মামনির বাম পায়ে বক্সে বল ফেলা। সেই ফ্রি-কিকের শট বিপক্ষ গোলরক্ষক মুন্নীর হাত ফসকে গোল লাইনের উপর হাওয়ায় ভাসতে থাকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস সেই বলে পা লাগিয়ে দলকে উল্লাসে মাতান। ৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এবার গোলদাতা আলপি আক্তার। ডান দিক থেকে তৃষ্ণা রানীর ক্রসে চলতি বলে পা লাগিয়ে চমৎকার গোল করেন আলপি। এ নিয়ে তিন আসরে ভারতের বিপক্ষে গোল করলেন এবারের লিগ রাজশাহী স্টারসের হয়ে খেলা এই স্টাইকার। ৪১ মিনিটে অবশ্য আরেকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন এই খেলোয়াড়। পূজা দাসের বাড়ানো ক্রস ছোট বক্সের উপর মাথা দিয়ে সামনে নামান আলপি। এরপর ডান পায়ের ভলি নিলেও তা ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে যায়।

দ্বিতীয় গোলের আগেই ৩৭ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার মাঠ থেকে তুলে নেন মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে। বিরতির পর ৭৮মিনিটে জয়নব বিবি রিতা, আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা তৃষ্ণা রানী এবং ৬৭ মিনিটে স্ট্রাইকার সৌরভী আকন্দ প্রীতিকে তুলে নেন কোচ। অন্য দিকে ভারতের কোচ এক খেলোয়াড়কে বদল করে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন। এতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভারত খেলায় ফেরার চেস্টাও করে। ৪৯ মিনিটে ঝুলান লংমাইথামের ভলি বার উঁচিয়ে যাওয়ায় রক্ষা। ৭০ মিনিটে ডিফেন্ডার জয়নব বিবি রিতার দক্ষতায় গোলের হাত থেকে বাঁচে বাংলাদেশ। তিনি ভারতীয় ফরোয়ার্ডের শটে পা লাগিয়ে কর্নার করেন। ৮০ মিনিটে ইয়ারজানের কৃতিত্বে বল জালে যায়নি। ৮৯ মিনিটেও শট বাংলাদেশী ডিফেন্ডারের পায়ে লাগায় গোল হয়নি।

পুরো ম্যাচে মিডফিল্ড দাবিয়ে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের মুনকি আক্তার। চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ভেঙেচুরে দেন ভারতের ডিফেন্স লাইন। তবে গোলের দেখা পাননি আগের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৪ গোল করা লালমনিরহাটের এই ফুটবলার। ৫৬ ও ৮৪ মিনিটে তার দু’টি দূর থেকে নেয়া শট রুখে দেন ভারতের গোলরক্ষক। এতে ২-০তে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। হারের ফলে ফাইনালে যেতে হলে ভারতকে এখন জিততে হবে ভুটানের বিপক্ষে।

বাংলাদেশ (অর্পিতা, আলপি) ২-০ ভারত