শিরোনাম: নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প: নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় ০১:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। নিজেকে দেশটির ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১২ জানুয়ারি) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই বার্তায় ট্রাম্প নিজেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও অভিহিত করেন।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক আকস্মিক সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। অভিযানে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মাদুরো দম্পতি নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাদের বিচারের প্রস্তুতি চলছে।
মাদুরোকে আটকের পরপরই ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থনের কথা জানায়। ডেলসি রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে আমিই আছি।’’ তিনি জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দেশটিতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূল নয়। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে আমাদের দেশটাকে ঠিক করতে হবে। মানুষের পক্ষে ভোট দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতিই নেই। দেশটাকে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে।’’
কে শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এক শব্দে উত্তর দেন, ‘আমি’।
ভেনেজুয়েলার ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গেও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে তেল কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ভর্তুকি দিতে পারে। ট্রাম্প মনে করেন, ১৮ মাসের কম সময়ের মধ্যেই এই পুনর্গঠন কাজ শেষ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে। তেল কোম্পানিগুলো সেই অর্থ বিনিয়োগ করবে এবং পরে রাজস্বের মাধ্যমে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’’
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনায় একটি উচ্চপদস্থ টিম কাজ করবে বলে জানা গেছে। এই প্রক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।






















