০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

খুলনায় বোরো চাষে কৃষি বিপ্লব: ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলনের হাতছানি

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিনের সূচনা হতে যাচ্ছে। খুলনার বিস্তীর্ণ মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জেলার কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার খুলনায় কৃষি বিপ্লব ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া

খুলনা জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। অতীতে চিংড়ি ও অন্যান্য ফসলে আগ্রহ থাকলেও, বর্তমানে উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও সরকারি প্রণোদনার কারণে কৃষকরা বোরো চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক মো. হালিম জানান, “সরকার থেকে বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়ায় আমাদের খরচ কিছুটা কমেছে। তবে সেচের জন্য খাল-বিলগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে এবং ধানের ন্যায্য দাম পেলে আমরা আরও লাভবান হবো।”

উপজেলা-ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা ও প্রস্তুতি

জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হচ্ছে ডুমুরিয়া উপজেলায়। এক নজরে বিভিন্ন উপজেলার চিত্র:

ডুমুরিয়া: লক্ষ্যমাত্রা ২১,৭০৩ হেক্টর। (জেলায় সর্বোচ্চ)

বটিয়াঘাটা: লক্ষ্যমাত্রা ৭,৬৫০ হেক্টর।

তেরখাদা: লক্ষ্যমাত্রা ৮,৫০০ হেক্টর।

পাইকগাছা: লক্ষ্যমাত্রা ৬,০১৫ হেক্টর।

কয়রা: লক্ষ্যমাত্রা ৫,৮৫০ হেক্টর।

রূপসা: লক্ষ্যমাত্রা ৫,৫০০ হেক্টর।

দিঘলিয়া: লক্ষ্যমাত্রা ৪,৯০০ হেক্টর।

ফুলতলা: লক্ষ্যমাত্রা ৩,৫৫৩ হেক্টর।

দাকোপ: লক্ষ্যমাত্রা ৭২৩ হেক্টর।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

খুলনা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি খুলনার কৃষিতে বড় পরিবর্তন আনছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাচ্ছি। আশা করছি এবার বাম্পার ফলন হবে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হদা এবং বটিয়াঘাটা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবু বকর সিদ্দিকও নিজ নিজ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ধানের বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে এই কৃষি বিপ্লব খুলনার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Anisul Haque

Md. Anisul Haque (Anis) Khulna District Correspondent — Dhaka Journal Md. Anisul Haque is a dedicated journalist and digital content creator, currently serving as the Khulna District Correspondent for the online news portal 'Dhaka Journal'. In addition to his reporting, he possesses expertise in graphics design and video editing, which enhances the visual storytelling of his news presentations. Prior to his career in journalism, he served in the Bangladesh Jail department as a Prison Guard (No. 42564). Alongside his professional reporting, he manages the Islamic platform 'The Quran Voice' and is actively involved in creating social awareness and entertainment-based digital content. He is committed to objective journalism and driving positive social change through his creative endeavors.

খুলনায় বোরো চাষে কৃষি বিপ্লব: ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলনের হাতছানি

আপডেট সময় ০৪:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিনের সূচনা হতে যাচ্ছে। খুলনার বিস্তীর্ণ মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জেলার কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার খুলনায় কৃষি বিপ্লব ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া

খুলনা জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। অতীতে চিংড়ি ও অন্যান্য ফসলে আগ্রহ থাকলেও, বর্তমানে উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও সরকারি প্রণোদনার কারণে কৃষকরা বোরো চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক মো. হালিম জানান, “সরকার থেকে বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়ায় আমাদের খরচ কিছুটা কমেছে। তবে সেচের জন্য খাল-বিলগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে এবং ধানের ন্যায্য দাম পেলে আমরা আরও লাভবান হবো।”

উপজেলা-ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা ও প্রস্তুতি

জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হচ্ছে ডুমুরিয়া উপজেলায়। এক নজরে বিভিন্ন উপজেলার চিত্র:

ডুমুরিয়া: লক্ষ্যমাত্রা ২১,৭০৩ হেক্টর। (জেলায় সর্বোচ্চ)

বটিয়াঘাটা: লক্ষ্যমাত্রা ৭,৬৫০ হেক্টর।

তেরখাদা: লক্ষ্যমাত্রা ৮,৫০০ হেক্টর।

পাইকগাছা: লক্ষ্যমাত্রা ৬,০১৫ হেক্টর।

কয়রা: লক্ষ্যমাত্রা ৫,৮৫০ হেক্টর।

রূপসা: লক্ষ্যমাত্রা ৫,৫০০ হেক্টর।

দিঘলিয়া: লক্ষ্যমাত্রা ৪,৯০০ হেক্টর।

ফুলতলা: লক্ষ্যমাত্রা ৩,৫৫৩ হেক্টর।

দাকোপ: লক্ষ্যমাত্রা ৭২৩ হেক্টর।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

খুলনা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধি খুলনার কৃষিতে বড় পরিবর্তন আনছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাচ্ছি। আশা করছি এবার বাম্পার ফলন হবে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হদা এবং বটিয়াঘাটা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবু বকর সিদ্দিকও নিজ নিজ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ধানের বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে এই কৃষি বিপ্লব খুলনার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।